স্টাফ রিপোর্টার: রংপুর মহানগরীতে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার আলোচিত ঘটনার পর মাত্র ১৩ দিনের মাথায় বদলি করা হয়েছে মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদকে। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মাহবুবুর রশিদকে। আকস্মিক এই বদলি ঘিরে রংপুরের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আব্দুল মাবুদের পরিবর্তে মাহবুবুর রশিদকে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন আব্দুল মাবুদ। দায়িত্ব নেওয়ার ১৩ দিনের মাথায় তাকে বদলি করা হলো। এর মধ্যেই রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনা।
একই পরিবারের ৪ জন খুন
মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুরো নগরীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিজ বাসায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ছিল, কারা পরিকল্পনা করেছিল এবং কীভাবে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হলো—এসব প্রশ্ন সামনে আসে। তদন্তের এক পর্যায়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার রাতে রংপুর মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে মামলার দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। এতে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নিয়ে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
৪ খুনের পরই প্রশাসনিক বদলি
রংপুরের চার খুনের ঘটনায় তদন্ত এগিয়ে চলার মধ্যেই পুলিশ কমিশনারের বদলিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রজ্ঞাপনে আব্দুল মাবুদের বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় এই পরিবর্তন হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মাহবুবুর রশিদ পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার সামনে রংপুর মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আলোচিত চার খুনের তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আরও ২ কর্মকর্তার বদলি
একই প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল আমীনকে খাগড়াছড়িতে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে রংপুরে আলোচিত চার খুনের পর মহানগর পুলিশ কমিশনারের দ্রুত বদলি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এই বদলির সঙ্গে চার খুনের ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব