বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে সেবাদানকারীদের সঙ্গে নেক্সাস প্রোগ্রামিং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যুব-নেতৃত্বাধীন এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় এবং অ্যাক্টিভিস্তা বাগেরহাটের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মন্জুরুল হাসান মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জয়দেব চক্রবর্তী । এ সময় অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সহকারী প্রকৗশলী মো. হুমায়ুন কবির, কাড়াপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি এস এম রাজ, জয়েন্ট সেক্রেটারি ইয়ামিন আলী, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ শওকত হোসেন, মোল্লা আব্দুর রব। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, যুব সদস্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বসতবাড়ি, কৃষি, মৎস্য ও অন্যান্য জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের ব্যয় বাড়ছে। আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার ঘাটতিও জরুরি সাড়াদানে বিলম্ব ঘটিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অংশগ্রহণে চিহ্নিত বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ পানীয় জল, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বেড়িবাঁধ, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
তরুণ প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের তথ্য, জনগণের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবিগুলো সমন্বিত করে একটি Demand Charter বা দাবি সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন ও হস্তান্তর করা হয়। দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয় এবং কর্তৃপক্ষের মতামত, প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তারা সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। নেক্সাস পদ্ধতির মাধ্যমে মানবিক সহায়তা, জলবায়ু ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন ও শান্তিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, যুব সদস্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম