গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ার চরবাঘুয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ নামের পাঁচ বছরের একটি শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৯ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি শিশুটির। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বইছে কান্নার রোল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলা করার সময় হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয় শিশু বায়েজিদ (৫)।
শিশু বায়েজিদের দাদা মমতাজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে পাশের কলাবাগানে কাজ করতে যায়। এ সময় বায়েজিদ দাদার সাথে না গিয়ে খেলতে বেরিয়ে পড়ে। খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি বায়েজিদ। তারপর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান মেলেনি তার। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের সকল জায়গায় সমস্ত রাতদিন খোঁজার পরেও বায়েজিদের সন্ধান না পেয়ে কাপাসিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
তিনি আরো জানান, আমার মনে হচ্ছে বায়েজিদকে কেউ নিয়ে গেছে। তা না হলে একদিন পেরিয়ে গেলেও কেন তার সন্ধান মেলেনি। এদিকে পাঁচ বছরের শিশু বায়েজিদকে ফিরে পাওয়ার আশায় অঝোরে কাঁদছে বাবা-মা, দাদা-দাদীসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।
শিশু বায়েজিদের মা মোসা. মদিনা জানান, শ্রীপুর উপজেলার স্কয়ার মাষ্টারবাড়ি এলাকায় ডিবিএল গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঘটনার দিন আমি কারখানায় ডিউটিতে ছিলাম। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ি থেকে আমার ননাস ফোন দিয়ে জানায় বায়েজিদকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, রাত নয়টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাপাসিয়া থানায় গিয়ে সন্তানের খোঁজ পেতে সাধারণ ডায়েরি করেন।
বায়েজিদের বাবা মো. মিজান বলেন, আমার সন্তানের জন্য আমি পাগল প্রায় হয়ে গেছি। সন্তান হারিয়ে গেলে একজন বাবার কেমন লাগে তা সবাই বুঝতে পারবে না। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি আমার সন্তানকে কোলে ফিরে পেতে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, বায়েজিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে। তার বাবা-মা শ্রীপুরের মাষ্টারবাড়ি এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে বাড়িতে থাকে না। শিশু বায়েজিদ তার দাদা-দাদীর সঙ্গেই বাড়িতে থাকে। বেশিরভাগ সময় দাদার সঙ্গেই থাকে বায়েজিদ। দাদাও নাতি বায়েজিদকে ভীষণ আদর করেন। নাতির কোন খোঁজ না পেয়ে দাদা মমতাজ উদ্দিন পাগল প্রায় হয়ে গেছেন বায়েজিদের জন্য। খাওয়া-দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই শিশু বায়েজিদকে খোঁজে পেতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে ২৯ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, বায়েজিদের দাদা আমাকে বিষয়টি জানালে আমি তাদের বাড়িতে যাই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাপাসিয়া থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শিশু বায়েজিদকে খোঁজে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরির তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই সৈয়দ জাকির হোসেন মুঠোফোনে জানান, শিশু বায়েজিদের ঘটনা তদন্তনাধীন। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব