মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে চুরি যাওয়া পিকআপ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মো. মারুফ মীরের এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাঁর মালিকানাধীন মাহেন্দ্রা কোম্পানির বোলেরো পিকআপটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২০৪৯। গাড়িটির ইঞ্জিন নম্বর CHKI A10107 এবং চ্যাসিস নম্বর MAI ZU2GHKKI A12012। এজাহারে গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে পিকআপটি রেখে যান চালক মুরসালিন। পরে রাতে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরে গাড়িটি নিতে এসে নির্ধারিত স্থানে পিকআপটি দেখতে পাননি তিনি।
পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি মালিককে জানান চালক। এরপর ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি পিকআপ মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। এ ঘটনায় মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরির মামলা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
চুরি যাওয়া পিকআপ উদ্ধারে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “আন্তরিকভাবে দুঃখিত যে আমার থানা থেকে একটি পিকআপ চুরি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই গাড়িটি চুরি হয়েছে। এখনো আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে এ চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম আমিন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনের নাম বলেছে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”
ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মালিক
চুরি যাওয়া পিকআপটি ঋণ নিয়ে কিস্তিতে কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মালিক মো. মারুফ মীর। গাড়িটি তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। পিকআপটি চুরি যাওয়ার পর ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
মারুফ মীর বলেন, “গাড়িটি দ্রুত উদ্ধার না হলে আমার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আমি দ্রুত গাড়িটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
মহাসড়কের পাশে চুরি, প্রশ্ন স্থানীয়দের
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে পিকআপ চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ তদন্তে পাওয়া তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে দ্রুত চুরি যাওয়া গাড়িটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পিকআপটি উদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব