ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আমেরিকান ডলার দেওয়ার কথা বলে গাইবান্ধার এক ব্যক্তিকে ঠাকুরগাঁওয়ে ডেকে নেওয়ার পর মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের মিলনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দেউলি পশ্চিমপাড়ার নার্গিস মিয়া (৪৫), শাহাডুবি এলাকার ওমর ফারুক (২০) এবং মিলনপুর এলাকার হালিমা খাতুন (৩৭)। পুলিশ বলছে, তাঁরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। চক্রটি বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কম দামে আমেরিকান ডলার দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিত।
পুলিশের ভাষ্য, নার্গিস মিয়া কয়েক দিন ধরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের শাহ আলমের (৪৫) সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে ভিডিও কলে আমেরিকান ডলারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মুদ্রা কম দামে দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে বিশ্বাস করে শাহ আলম বৃহস্পতিবার রাতে মিলনপুরে যান এবং তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে শাহ আলমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নার্গিস মিয়া, ওমর ফারুক ও হালিমা খাতুনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে নার্গিস মিয়ার কাছ থেকে ১১টি এক ডলারের নোট উদ্ধার করা হয়। ওমর ফারুকের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ এবং হালিমা খাতুনের কাছে থাকা একটি কালো লাগেজ থেকে ‘DB’ লেখা একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা শাহ আলমের কাছ থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ২ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নার্গিস মিয়া, ওমর ফারুক ও হালিমা খাতুন ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
আহত শাহ আলমকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ১৭০, ১৭১, ৪০৬ ও ১২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আরও কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব