ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নেপালে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহত অজ্ঞাত ও দাবিহীন ব্যক্তিদের দাফনে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে যাতে নির্দিষ্ট মৃতদেহটি সহজেই শনাক্ত করে কবর থেকে উত্তোলন করা যায়, সে জন্য প্রতিটি মৃতদেহকে আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর দিয়ে দাফন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি সমাধিস্থলের অবস্থান জিও-ট্যাগ এবং দাফন প্রক্রিয়া ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে মৃতদেহ উত্তোলনের সুবিধার্থে কবরগুলো প্রায় দেড় মিটার গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে। প্রতিটি কবরের মধ্যে রাখা হচ্ছে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট মৃতদেহ শনাক্ত হলে সেটি অন্য কবরের সঙ্গে গুলিয়ে না যায় এবং সহজেই উত্তোলন করা সম্ভব হয়।
দাফনের আগে প্রতিটি মৃতদেহকে একটি শনাক্তকরণ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবর দেওয়ার পর সেখানে কংক্রিটের একটি প্ল্যাটফর্ম ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। সাইনবোর্ডে সংশ্লিষ্ট মৃতদেহের শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ থাকছে।
শুধু কবর চিহ্নিত করেই থেমে থাকছে না কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি দাফনের ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং সমাধিস্থল জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে তার কবরের সঠিক অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য যেতে হবে। এসব নমুনা পরীক্ষার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ সেগুলো দাফন করা অজ্ঞাত মৃতদেহগুলোর সংরক্ষিত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।
ডিএনএ পরীক্ষায় কোনো মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর বের করা হবে। এরপর পুলিশ তাদের রেকর্ডের মাধ্যমে ওই নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমাধিস্থলের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করবে।
শেষ ধাপ কবর থেকে নির্দিষ্ট মৃতদেহটি উত্তোলন করে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ