ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমি কৃষি কাজে ফলদ ও বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
রোববার (৩০ আগস্ট) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে ‘পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন শতাধিক কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাবুল খান বলে, গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ফলদ গাছ ভবিষ্যতে কৃষকের পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। শুধু চারা হাতে তুলে দিলেই হবে না প্রতিটি চারা সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করে তুলতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. খয়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলদ ও বনজ গাছ কৃষকের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ এবং সবুজায়ন বাড়ানো গড়ে তোলার আহবান জানান। চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চাষ বাড়ানো গেলে কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পভুক্ত কৃষি উন্নয়ন সমিতির কৃষক-কৃষাণী এবং সমিতির কৃষকদের মধ্যে আম, লিচু, কাঁঠাল, কদবেল, লেবু, পেয়ারা, জাম, আতা, নিম ও আমলকী ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।
কৃষক তারা মিয়া বলেন, বাড়ির পাশের রাস্তা ও পতিত জমিতে এসব চারা রোপণ করবেন তিনি। সঠিক পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হলে পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়েও সহায়ক হবে বলে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল-মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক (লিসাসা), প্রশাসন ও অর্থ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফরিদপুর অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃশাহাদুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আয়ুব মোল্লা, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন সমিতির কৃষক-কৃষাণীরা এসময় বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনিটরিং অফিসার পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের শারমিন সুলতানা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মসূচির আওতায় পৌর ও উপজেলার ৩২৫ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজারের অধিক ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব