রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নির্মম আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আছিয়া তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর কর্তৃক ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরবর্তীতে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বছরের ১৩ মার্চ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
এই মামলার আসামি হিটু শেখ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দায় স্বীকার করে নেন। বিচারিক আদালতের রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এরপর মামলাটি হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলো।
কিছু অবজারভেশন দিয়েছেন আদালত। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আদালতে আসামিপক্ষে যিনি আইনজীবী ছিলেন, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। আদালত মন্তব্য করেছেন, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষেত্রেও একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভালো আইনজীবী হলে হয়তো সাক্ষীদের সঠিকভাবে জেরা করে আসামিপক্ষ কিছু বেনিফিট পেতে পারতো। তবে সে কারণে এই মামলার বিচার এবং বিচারিক আদালত যে কারণ উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা আদালতের একটি পার্শ্ব মন্তব্য। আদালত এ ক্ষেত্রে মামলার রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে হিটু শেখের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েছেন।
হিটু শেখ নিজেই বর্ণনা করেছেন, আট বছরের একটি শিশুকে সে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। সেই শিশুকে ধর্ষণ করতে না পেরে সে পাশের রুম থেকে গিয়ে ব্লেড এনে তার যৌনাঙ্গ কেটেছে এবং সেখানে চেষ্টা করেছে, সেখানেও সে সফল হয়নি। পরবর্তীতে যখন এই মেয়েটির মুখ চেপে ধরেছে এবং মেয়েটি শব্দ করার চেষ্টা করেছে, তখন তার গলা চেপে ধরেছে এবং ওড়না দিয়ে গলা চেপে ধরেছে। মেয়েটি অচেতন হয়ে গেছে। সে বারবার তার শরীরের ওপর উঠে এই মেয়েটিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে।
আদালত যেটাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, তা হলো, তার পরিহিত লুঙ্গিতে সে বীর্যপাত ঘটিয়েছে এবং সেই বীর্যপাতের ডিএনএতে তা প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য বলেছি, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং এই আইনের মধ্যে কোনো ধরনের আইনে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, যে কারণে হিটু শেখের কোনো অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ আছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই বক্তব্যটি আমাদের আদালত পূরণ করেছেন।
১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দিতে সে কিন্তু একটি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। সুতরাং, তা থেকে বোঝা যায় যে তিনি স্বেচ্ছায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি দিয়েছেন এবং যেটি গ্রহণ করে আদালত সাজা দিয়েছেন।
শুধুমাত্র এটি নয়, পাশাপাশি অন্যান্য সাক্ষীও রয়েছেন। যেমন, প্রথম যে জোহরা প্রতিবেশী, তিনি যখন এসে দেখেছেন, মেয়েটাকে আটকে রাখা হয়েছে, তার বোনকে আটকে রাখা হয়েছে, তার বোনের সাক্ষী। সুতরা, এসব কিছু বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম