ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫৫টি ইয়াবা বড়ি ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ টাকা ইয়াবা বিক্রির বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালন্দর ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গী বাজারসংলগ্ন নয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) ওরফে দুলালকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কচুবাড়ি ভাটা এলাকায়।
পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির ডান কোচর থেকে ১০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাসহ আশপাশে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, গতকাল দুপুরে হরিপুর থানার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাশ এলাকায় অভিযান চালায় হরিপুর থানা-পুলিশ। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন মো. নাজির হোসেন (৫৫)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নাজির হোসেনের কাছ থেকে ১৪৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে এলে সেটি তল্লাশি করে নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই টাকা মাদক বিক্রির।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও নাজমা দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, নাজমা মাদক ব্যবসায় অর্থের জোগান ও সহযোগিতা করতেন। তাঁদের সঙ্গে মাদক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও সহযোগী আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। হরিপুর থানায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব