রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দূর করতে সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের খননকাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। এর ফলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মহেশখালীর কুতুবজোনে একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল চালু করার আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
এ ছাড়া দেশের পায়রা, মোংলা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো এলাকায় আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানো হবে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির পরিমাণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম