স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। সম্প্রতি তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। একটি গণমাধ্যম পপির পুরোনো বক্তব্যের কার্ড বানিয়ে পোস্ট করে। সেখানে বক্তব্যটি ছিল এমন, ‘যতটুকু পাপ কামাইছি, সব ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই। আর যে কয়দিন বাঁচব, হেদায়েতের জন্য আল্লাহ-খোদার নাম করে যাব।’
এমন বক্তব্যের পর অনেকে ধরে নেন, পপি অভিনয় ছাড়ার কারণ হিসেবে এমন মন্তব্য করেছেন। এরপর নেটিজেনরাও নানা মন্তব্যে ভরিয়ে তোলেন সোশ্যাল মিডিয়া। এমন পরিস্থিতিতে সেই বক্তব্যের বিষয়বস্তু পরিষ্কার করলেন পপি।
তার কথায়, এর সঙ্গে সিনেমা ছাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। গল্প ভালো লাগলে সিনেমা প্রযোজনায় নামবেন, এমনকি সময়-সুযোগ পেলে অভিনয়ও করবেন।
পপি বলেন, ‘আমি কিন্তু আমার ব্যক্তব্যে একবারের জন্যও বলিনি যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাপ করেছি। মানুষ কি তার নিজের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় না? আমরা তো জেনে না জেনে পাপ করি, সেসব পাপের জন্য কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যাবে না? আমার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি স্বামী-সংসার নিয়ে ভালো থাকতে পারি, সেটা তো অন্যায় কিছু নয়।’
সিনেমার প্রতি এখনো সমান ভালোবাসার কথা জানিয়ে পপির সংযোজন, ‘যে সিনেমা আমাকে এত যশ, খ্যাতি ও সম্মান এনে দিয়েছে, যে সিনেমা থেকে অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করেছি, আজও দর্শক আমাকে এত ভালোবাসে, সেই সিনেমা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার প্রশ্নই আসে না। আমি চলচ্চিত্রকে এখনো অনেক ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।’
অবসর নেননি জানিয়ে এই চিত্রনায়িকা আরও বলেন, ‘এখনো অবসর নিইনি। যদি কোনো গল্প ভালো লাগে, অভিনয় করতেও পারি। ইচ্ছা আছে নিজের বায়োগ্রাফিতে অভিনয় করার। তবে অভিনয়ে ফিরি বা না ফিরি, প্রযোজনা করার খুব ইচ্ছা আছে।’
২০২১ সালের শুরু থেকেই মিডিয়াসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পপির যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, তিনি বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এবং এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। তার ছেলের নাম আয়াত।
স্বামী-সংসার নিয়ে ভালো আছেন জানিয়ে পপি বলেন, ‘জীবনের প্রয়োজনে সিনেমা থেকে সরে এসেছি। আমার স্বামী আদনান আমাকে ভীষণভাবে আগলে রাখে। একমাত্র ছেলে আয়াতকে নিয়ে সময় কেটে যায়। সবার দোয়ায় আমাদের সুখের সংসার।’
১৯৯৫ সালে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পপির মিডিয়ায় পথচলা শুরু। এরপর প্রয়াত পরিচালক শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্নধর্মী ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
পপি অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’। আরও কয়েকটির শুটিং শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আর সময় দিতে পারেননি বলে আটকে আছে সেইসব সিনেমার কাজ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব