আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৬৮.৫০ কোটি টাকা) মূল্যের গোলাবারুদ চুক্তিতে ভয়াবহ জালিয়াতির দায়ে পদত্যাগ করেছেন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হান্নো পেভকুর। গোলাবারুদ সরবরাহের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা একটি ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থার সাথে এই বিতর্কিত চুক্তি এবং জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের (ন্যাশনাল অডিট অফিস) কড়া রিপোর্টের পর তিনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেভকুর জানান যে, দেশের নিরাপত্তা কোনো একক ব্যক্তির বিষয় নয়, তাই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন। ইউক্রেনে তীব্র অস্ত্রসংকটের সময় ২০২৪ সালে এস্তোনিয়ার 'সেন্টার ফর ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্টস' (আরকেআইকে) ইতালিতে নিবন্ধিত 'ডাটা সেল এসআরএল' নামের একটি সংস্থার সাথে চুক্তি করে, যা কিছুদিন আগেই ভারতের 'নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস' অধিগ্রহণ করেছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'ইউরোপীয় পিস ফ্যাসিলিটি'র তহবিল থেকে আগস্ট ২০২৪ থেকে শুরু করে দফায় দফায় প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো ওই কোম্পানিকে অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। কয়েক মাসের মধ্যে ইউক্রেনে এই আর্টিলারি শেল পৌঁছানোর কথা থাকলেও বারবার সরবরাহে বিলম্ব হতে থাকে। অবশেষে ২০২৫ সালে যে অস্ত্র এসে পৌঁছায়, তা নিম্নমানের হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়। সংস্থাটির চরম অযোগ্যতা সামনে আসার পর আরকেআইকে চুক্তি বাতিল করে এবং পুরো অগ্রিম অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানায়।
ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট সেন্টারের ডিরেক্টর জেনারেল এলমার ভাহের স্বীকার করেছেন যে, এই কোম্পানির সাথে চুক্তি করাটাই একটা বড় ভুল ছিল। বিষয়টি এখন ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অবস্থিত 'ইউরোপীয় সালিশি ও মধ্যস্থতা কেন্দ্রে' গড়িয়েছে, যেখানে এস্তোনিয়া তাদের ৭০ মিলিয়ন ইউরো উদ্ধারে আইনি লড়াই চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থা ডাটা সেল পাল্টা দাবি করেছে যে তারা ৫৯ মিলিয়ন ইউরোর পণ্য সরবরাহ করেছে এবং এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তর সর্তক করে জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি এই অর্থ ফেরত না দেয়, তবে এস্তোনিয়ার রাজকোষ থেকেই এই বিরাট অঙ্কের অর্থ মেটাতে হবে। পেভকুর নিজে কোনো ব্যক্তিগত দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও নিরীক্ষা দপ্তরের পর্যালোচনার পর নৈতিক দায় এড়াতে পারেননি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী এই ছোট দেশটি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে উঠে এসেছিল, কিন্তু একটি অভিজ্ঞতাছাড়া সংস্থাকে বিপুল অর্থ অগ্রিম দিয়ে অস্ত্র কিনতে গিয়ে এমন আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারী পেভকুরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইতি টেনে দিল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব