কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ এনে গণপিটুনিতে নিহত কথীত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ দাফন করার পাঁচ মাস পর কবর থেকে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে। কবর থেকে তোলা মরদেহটি পরে তার নিজের দরবারে নতুন ভাবে দাফন করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি সামাজিক কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তোলা হয় । পরে মরদেহটি শামিম বাবার দরবার শরিফে নিয়ে নতুন করে দাফন করা হয়।সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন কবর স্থানে গিয়ে দেখতে পান শামিমের কবরটি খোঁড়া এবং মাটি আলগা করা অবস্থায় রয়েছে এবং ভেতরে কোন মরদেহ নেই। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বজনেরা দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে বাঁশের খাঁপা দিয়ে ঢাকা নতুন একটি কবর দেখতে পান।নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে কবরস্থানে গিয়ে দেখি কবর খোঁড়া ও ভেতরে লাশ নেই। পরে দরবারে গিয়ে নতুন একটি কবর দেওয়া দেখতে পাই।
ওসি খালেদুর রহমান জানান, দরবার প্রাঙ্গণের নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তবে এটি পীর শামিমেরই মরদেহের অবশিষ্টাংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্যে,চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীর শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষুব্ধ জনতা। ওই সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম