রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ শেষ করার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারাগার থেকে খালাস পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা জানান। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা জানতে চান, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত অনেক সদস্য সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ আমলের মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এবং সাজা শেষ হওয়া বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত খালাসের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাগুলো ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন কোনো ধরনের অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো অযৌক্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তাহলে এ-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস পাবেন।
অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপের সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের আবার বিজিবিতে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে বর্ণিত চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্তকরণ শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অবসর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ণিত শাস্তিগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দেওয়া হয়েছে। কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তাই চাকরিচ্যুত এসব সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। বর্তমানে ওই মামলার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে ৮৩৪ জন বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিস্ফোরক মামলাটির বিচারকার্য নিম্ন আদালতে বর্তমানে চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় ওই দুই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম