ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করা একটি ট্রেনে ছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এ হামলাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘পরিকল্পিত উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওলগাস্ট শহরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ট্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়ে পুতিন ইউরোপে ভয় সৃষ্টি করতে চাইছেন।
পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে এবং কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।’ তার ভাষ্য, পুতিন যা করছেন তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। সেই কারণেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেনীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বরিস জনসন ও ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী ট্রেনটি সীমান্ত অতিক্রম করে। হামলার আশঙ্কায় ট্রেনটির সময়সূচিও নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবর্তন করা হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওই কূটনৈতিক ট্রেনটিও হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হামলার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর সময় যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামতে বলা হয়। এর কয়েকশ মিটার দূরেই পরে ড্রোনের শব্দ শোনা যায়।
তবে হামলায় ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বরিস জনসন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক রেল যোগাযোগব্যবস্থার ওপরও রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ