ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত শত ভবন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক সরকারি প্রতিবেদনে যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সামরিক ও আর্থিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপও বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ জুন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের বড় অংশই গেছে গোলাবারুদ ব্যবহারে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আরও ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও বেশ বড়। জুনের শেষ নাগাদ একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান, চারটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, সাতটি হেলিকপ্টার এবং ৩০টির বেশি ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুদ্ধের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে সামনে এসেছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়টি। সংঘাতে ব্যাপক হারে গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুতে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন করে গোলাবারুদ উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অর্থাৎ, ইরানের পাল্টা হামলায় শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের কৌশলগত মজুত এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও। একই সঙ্গে ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল যুদ্ধব্যয় ওয়াশিংটনের জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফলে ইরানের সঙ্গে সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ক্ষয়ক্ষতি, বিপুল যুদ্ধব্যয় এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সরকারি প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ পরিচালনা ও এর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে চাপ আরও বাড়াতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম