রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যে ধলতা ও তোলাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রকৃত কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পাংশা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেন সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও কৃষক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ দাস।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ কৃষি ও কৃষক সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত। কৃষক মাঠে ফসল ফলান। আর ফসল উৎপাদনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর একটি রাসায়নিক সার। দীর্ঘদিন ধরে সারের বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে।
তাঁরা বলেন, সরকার নির্ধারিত এক কেজি ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষকদের স্থানভেদে ৩০ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এক কেজি ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২১ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা এবং এমওপি (পটাশ) ২০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পাংশা ও আশপাশের কোনো স্থানেই এসব সার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানভেদে কোনো কোনো সার ৪৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে হচ্ছে। কৃষক দোকানে গেলে বিক্রেতারা সারের সংকটের কথা বলেন। অথচ বেশি টাকা দিলেই সারের অভাব থাকে না। সারের এ সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু সারের দাম বৃদ্ধি নয়, অতিরিক্ত খরচে ফসল উৎপাদন করতে হয় কৃষকদের। পরে সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে আবার ধলতা দিতে হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার ধলতা প্রথা বাতিল করলেও হাটবাজারে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখনো পেঁয়াজ, রসুন, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর ধলতা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকার যে কৃষি কার্ড দিচ্ছে, তা যেন প্রকৃত কৃষকেরাই পান, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
১১ দফা দাবির অন্যগুলো হলো- ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করা, সরকারি ক্রয়কৃত পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা, ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা, সার-বীজ-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো, সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিএডিসিকে সচল করা, পল্লী রেশন ও শস্যবীমা চালু করা এবং পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব