সিনিয়র রিপোর্টার: আওয়ামী যুবলীগের বনানী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক, ভূয়া ও অনুমোদনবিহীন মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা সুফি সাগর শামসকে রামপুরা থানায় দায়ের করা এক চাঁদাবাজির মামলায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ শে সেপ্টেম্বর) প্রতারণার অভিযোগের এক মামলার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তার বিরুদ্ধে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সংগঠিত করার পেছনে সুফি সাগরের অর্থ সরবরাহের প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০২৪ এর জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীতে সংগঠিত গণহত্যার সঙ্গে সুফি সাগরের সংশ্লিষ্টতারও তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ এক মাস আত্মগোপনে থাকার পর চলতি বছরের ২৩ আগস্ট সুফি সাগরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। আদালত তাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেয়। জামিন পেয়ে পুনরায় প্রতারণার নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সফল করতে যুবলীগকে মাঠে নামায়। ফলে সুফি সাগরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করে আসা মাদারীপুরের এই প্রতারকের নাম 'সুফি সাগর শামস'। চাঁদাবাজীর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিকের গন্ডি না পেরোনো ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারী কথিত 'সুফি সাগর শামস' মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা পরিচয়ে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করে থাকে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হবার পর ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার নামের সঙ্গে ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভুয়া সনদ দেখান। এক পর্যায়ে সুফি সাগর স্বীকার করেন যে, তাকে আমেরিকা প্রবাসী এক ভাই এই পিএইচডি ডিগ্রির সনদ সংগ্রহ করে দিয়েছেন। ডিবি আরও জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে এরকম বেশ কিছু ভিজিটিং কার্ড ও একটি ডক্টরেট ডিগ্রির ভুয়া সনদ জব্দ করা হয়। ডিবির অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়, প্রতারক সুফি সাগর ডক্টরেট ডিগ্রীর দাবিদার হলেও প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডিও পেরুতে পারেনি।
সুফি সাগর আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের আড়ালে একটি চক্র পরিচালনা করে থাকেন। যার কাজ হলো সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি বা স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে তাদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো। পরে এই চক্রের সদস্যরা সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটি মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে মনগড়া অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক মর্যাদাহানি ও হয়রানি করার ভয় দেখায়। অনেকে সামাজিকভাবে হেনস্থার ভয়ে চাঁদা দিয়ে থাকে।
এর আগে মানব পাচারের অভিযোগে আমেরিকান দূতাবাসের করা একটি মামলায় সুফি সাগরের প্রতিষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ডিবি কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জাতিসংঘের ভুয়া আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে সাধারণ লোকজনকে আমেরিকা পাঠানোর নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই ভুয়া ও ভুইফোঁড় অনুমোদনহীন আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হলেন এই প্রতারক সুফি সাগর শামস।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম