ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্ক ছাড়লেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তিনি। এরপর প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, জাতিসংঘে ভাষণ ও কয়েকটি বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, এবারের নিউইয়র্ক সফর ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং ভাষণ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তার শহর ছাড়ার কথা ছিল।
তবে এত দ্রুত নিউইয়র্ক ছাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে সফর ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর নেতানিয়াহু প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি ‘আইজ্যাক অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহুর সংক্ষিপ্ত সফরের সময় নিউইয়র্কের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তার সফরের প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। শত শত বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিউইয়র্কের প্রথম অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশ অবরোধ করেন।
বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক পুলিশের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রায় ১০০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে শতাধিক গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক ছিল। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতানিয়াহু শহরে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের এককভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনগত ক্ষমতা নেই। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময়ও কূটনৈতিক প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা যায়। তিনি বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার সময় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিসহ বহু প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নীতির পক্ষে বক্তব্য দেন এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতাকারীদের পাশাপাশি তার সমর্থনেও পাল্টা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফলে অল্প সময়ের নিউইয়র্ক সফরজুড়েই বিক্ষোভ, কূটনৈতিক প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ছিল তীব্র।
তবে সবকিছুর পরও সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে নেতানিয়াহুর দ্রুত নিউইয়র্ক ছাড়াকে ঘিরে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ না করায় নিরাপত্তাজনিত কারণের সম্ভাবনাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত তার দ্রুত প্রস্থানের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, সিবিএস নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম