রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার দুই দিন পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযানে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যারবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন, হেলাল উদ্দিনের বড় ছেলে সজীব, ছোট ছেলে শামীম এবং বড় মেয়ে সামিয়া। তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁয়ের বৈদ্যারবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে যাচ্ছিলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের ওই পরিবারের সদস্যরা। পথে হঠাৎ ঝড়-তুফানের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়। তবে একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার সকালে একে একে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরে মেঘনা নদীতে সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অপর ব্যক্তি হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্বজনদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। মেঘনার পানিতে নিখোঁজ বাবা হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের তল্লাশি চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম