শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর নীলমনি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিজের পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রচলিত নিয়ম ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালনা করা হয়েছে। তবে একটি পক্ষ বিষয়গুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য প্রচার করছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিদ্যালয়ের নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো কিংবা কাউকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সদস্য করার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা সভাপতি করার কথা বলে তিনি কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। একইভাবে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক কমিটির সদস্য এমদাদ ঢালী ও সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে পৃথক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা একটি পক্ষের দাবি দিয়ে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক সুলতান শেখের নামেও বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, অফিস সহায়ক হিসেবে সুলতান শেখ তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে যেতে চাই না। আমি শুধু চাই, সত্য বিষয়টি সত্য হিসেবে এবং ভুল বিষয়টি ভুল হিসেবে উপস্থাপন করা হোক। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হোক এবং যথাযথ তদন্ত করা হোক। তদন্তের আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে একজন শিক্ষকের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে যেন বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তদন্তের আগে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের পরই বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে মতামত দেওয়া উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ