ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধসে অন্তত দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে ও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা আবারও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছেন।
চীনের সীমান্তের কাছে ৭ হাজার ১২৬ মিটার (২৩ হাজার ৩৪৫ ফুট) উচ্চতার পর্বতটির বেস ক্যাম্পে রোববার ভোরে তুষারধস আঘাত হানে। এতে তাঁবুগুলো গভীর তুষারের নিচে চাপা পড়ে।
কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং এএফপিকে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে দুটি মরদেহ পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখনো নিখোঁজ ১৪ জন অভিযানের কর্মীর সন্ধানে তল্লাশি চলছে।’ তিনি আরও বলেন, আটজন পর্বতারোহী গাইডের একটি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া পর্বতারোহী মিংমা জি শেরপা বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা প্রাণ বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে রোববার সন্ধ্যার আগে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারিনি।’
শেরপা বলেন, মৃত দু’জনই গাইড ছিলেন। আর নিখোঁজ ১৪ জন অভিযানের ক্যাম্পে রান্নার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এর আগে আয়োজকেরা জানান, অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে নেপালে আঘাত হানা ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যায় নেপালে এক হাজার ৪০০ শতাধিক মানুষ মারা যান। নিখোঁজ হন ৬ সহস্রাধিক মানুষ। দেশটি এখনো ওই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আরও বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় অন্তত ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের আটটির অবস্থান নেপালে। দেশটির অর্থনীতি পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং পর্যটনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ