নওগাঁ প্রতিনিধি: তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নওগাঁর আত্রাইয়ের কৃতি সন্তান, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী। শিক্ষা বিস্তার, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বহুমুখী সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি আজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম এক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রহমান রিজভী। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলী মোল্যা এবং মাতা মোছা. সুফিয়া খাতুন। স্থানীয় কোঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সালে অনার্স ও ১৯৯৭ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে কম্পিউটার ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি বিএনসিসি, স্কাউট ও রোভার স্কাউট শাখায় অ্যাডভান্স কোর্স সম্পন্ন করে উভয় শাখায় উড ব্যাচ অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুর রহমান রিজভী। ২০০০ সালে নিজ এলাকায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানদের জন্য কোচিং কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও তিনি নিজ দায়িত্বে করেন।
কারিগরি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে ‘প্রজন্ম কম্পিউটার কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ২০০২ সালে ‘বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজ’ নামে রূপান্তরিত হয়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০৪ সালের ১ মে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমসহ নানামুখী সুবিধার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। ২০১৬, ২০২২ এবং ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে।
বেকারত্ব দূরীকরণে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছেন অধ্যক্ষ রিজভী। রহমান স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ও প্রজন্ম কম্পিউটার কলেজের মাধ্যমে তিনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে বিনামূল্যে কোর্স পরিচালনা করছেন, যেখানে অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন উন্নয়ন এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা ও চক্ষু শিবির পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। প্রজন্ম মানবিক অধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র, প্রজন্ম পাঠাগার এবং ‘প্রজন্মের মেলা’র মতো সংগঠনের মাধ্যমে তিনি তরুণদের মাঝে পাঠাভ্যাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে কাজ করছেন। এছাড়া করোনাকালীন সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও ঈদ সামগ্রী বিতরণে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী ২০২২ সালে নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কারিগরি), ২০২৪ সালে রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এবং ২০২৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কারিগরি) হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
তিনি শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ‘প্রগতিশীল শিক্ষা পরিষদ’ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্স কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক, এবং বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণা সংগঠনের সাথেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী বলেন, “তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে না পারলে তারা মাদকসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই তাদের কল্যাণে কাজ করাকে এবং শিক্ষকতা পেশাকে আমি ইবাদত মনে করি।”
সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে গুণগত শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ উন্নয়নের এই অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন এই গুণী শিক্ষাবিদ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম