রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হাফপ্যান্ট বা স্পোর্টস শর্টসকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে হয়রানির প্রতিবাদে এবার হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন কয়েকজন তরুণ। ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান এবং গণপরিবহনে পোশাকের কারণে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি তোলেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কয়েকজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রো স্টেশনে আসেন এবং মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হয়রানির শিকার হন। তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে একজন পুলিশ সদস্য তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার সকালে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা কিংবা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের আহ্বান জানিয়ে আয়োজকেরা ফেসবুকে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ নামে একটি ইভেন্ট খোলেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই ইভেন্টে ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ দেখিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে কয়েকজন তরুণকে হাফপ্যান্ট পরে জড়ো হতে দেখা যায়।
তাদের মধ্যে ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।
সাগর মজুমদার বলেন, আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।
সাগর মজুমদার বলেন, তিনি নিজেও একজন রানার। ফলে মেট্রোরেলসহ যেকোনো জায়গায় পোশাকের কারণে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।
সকাল সাতটার পর সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। তারা টিকিট কাউন্টার থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কাটেন। এরপর টিকিট পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেন।
পরে ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেলে চড়ে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে তারা নিজেদের গন্তব্যে চলে যান। তাদের সঙ্গে থাকা রকিবুল ইসলাম অবশ্য মেট্রোরেলে ওঠেননি। তিনি জানান, মূলত একজন রানারকে হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই কর্মসূচিতে এসেছিলেন।
রকিবুল বলেন, তিনি জানতে পারেন, পরিচিত অনেকেই ইভেন্টে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেই অনুযায়ী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন দেখতে পান বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে জানা গেছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুজন ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর থেকেই মেট্রোরেলে পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে ফার্মগেট স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য থামান। তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই বলে দাবি করেছেন প্রতিবাদকারীরা। তাদের বক্তব্য, কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে সেটির স্পষ্ট, লিখিত ও সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
কর্মসূচির ফেসবুক ইভেন্টে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদস্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে।
তাদের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম