রিপোর্টার্স ডেস্ক: অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্য, নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এবার রাবি শিবিরের কার্যক্রম ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন আম্মার। শিবিরের অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগেরই প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আম্মার লেখেন, রাবি শিবিরের একটা ভয়াবহ গুণ—তারা মিথ্যাকে সত্য বানায়, আর সত্যকে মিথ্যা।
নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মার দাবি করেন, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি এমন আচরণ করেননি, যা অন্য কোনো অর্থ বহন করে। তার ভাষ্য, তাকে নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগে বহিষ্কার করা হলেও শিবিরের দায়িত্বশীলদের মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের উদাহরণ রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, তাকে নিয়ে একসময় ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হয়েছিল। তার দাবি, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থসংকটের কথা জানিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান। পরে সেই প্রস্তাবকে চাঁদা চাওয়ার চিঠি হিসেবে প্রচার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্যের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আম্মার। তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি ওই কমিটি এনে দিয়েছেন—এমন একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শিবিরের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আম্মার। তিনি বলেন, ডানপন্থী সংস্কৃতিচর্চার কারণে তাকে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। শিবিরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তিনি অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
আম্মার আরও দাবি করেন, রাবি শিবিরের শাখায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও কোনো অভিযোগের প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, তারা একাধিক অভিযোগ এনেছে, একটা প্রমাণ আনেনি। শুধু এলিগেশন।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, আনিত অভিযোগগুলোর কোনোটার সাথেই সম্পৃক্ত না। এখন যেটা আমি করিনি, সেটার অভিযোগ যদি আমার বিরুদ্ধে দেন তো আমি প্রমাণ কীভাবে দিব?
এর আগে শিবিরের বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠিতে আম্মারের সাথী পদ স্থগিত ও পরে বাতিলের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এসব চিঠিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। শিবিরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার।
এছাড়া, নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেক পোস্টে আম্মার শিবিরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ বাণিজ্যের একটি প্রমাণ দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি এ জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব