রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শিম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা। অধিকাংশ সাধারণ সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি অন্তত ৭০ টাকা।
তবে সবজির বাজারে বাড়তি চাপ থাকলেও চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে। মাছের দাম বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি হচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তবে দেশি শসার দাম কিছুটা বেশি, ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। শীতের আগাম সবজি শিমের দাম উঠেছে ২০০ টাকা কেজিতে। বিপরীতে বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, কেজিপ্রতি ৩০ টাকা।
সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দামি সবজির তালিকায় রয়েছে লম্বা বেগুন, গোল বেগুন ও টমেটো। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম কেজিতে ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকায়। সবকিছুর দামই বেশি।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা এবং চারটি ডিমের দাম ৫৫ টাকা।
ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ‘এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করছি। দামে তেমন পরিবর্তন নেই।’
মাছের বাজারেও সপ্তাহজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
চাষের কই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম শুধু বাজার বা প্রজাতির ওপর নির্ভর করে না; মাছের আকার, সরবরাহ এবং জীবিত না মৃত—এসব বিষয়েও দামের পার্থক্য হয়। ফলে একই মাছের দাম বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি হতে পারে।
মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজ তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি এলে দাম কমে যায়, ক্রেতা বেশি হলেও দাম বেড়ে যায়।’
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম মোটামুটি স্থির থাকলেও সবজির বাড়তি দামেই বেশি চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি ২০০ টাকা হওয়ায় বাজারের তালিকায় এটি এখন অন্যতম ব্যয়বহুল সবজি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম