নোয়াখালী প্রতিনিধি: বিদেশ থেকে ফিরে বন্ধুদের নিয়ে নোয়াখালীর একটি বাগানে বারবিকিউ পার্টি দিয়েছিলেন এক তরুণ। সেখানে স্থানীয়ভাবে ‘ঝাক্কাস’ নামে পরিচিত অ্যালকোহল–জাতীয় পানীয় পান করেন তাঁরা। পানীয় পানের পরপরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে পার্টির আয়োজক তরুণকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর তাঁর চার বন্ধু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হন হাসপাতালে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকেই ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত তরুণ সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে একটি বাগানে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন তিনি। সেখানে মদের সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের একধরনের অ্যালকোহল যুক্ত পানীয় তৈরি করে সেবন করেন তাঁরা। পানীয়টি পানের পরপরই তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে বিদেশ ফেরত তরুণকে উদ্ধার করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একজন ও নোয়াখালী ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভর্তি তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক মোহাম্মদ রাজিব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে ভর্তি তরুণেরা বিষাক্ত মদ পান করেছেন। তবে তাঁরা কী ধরনের পানীয় ও মাদক খেয়েছেন, তা জানা যায়নি। এ জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, তরুণেরা পার্টিতে মদের সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের একধরনের অ্যালকোহল–জাতীয় পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। এর বিষক্রিয়ায় একজন মারা গেছেন, অন্যরা অসুস্থ হয়েছেন।
ইদ্রিসুর রহমান আরও বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। হাসপাতালে একজনকে মৃত ঘোষণার পর স্বজনেরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাতে লাশ উদ্ধার করা হয়নি। রোববার সকালে লাশ উদ্ধারের জন্য নিহতের বাড়িতে পুলিশ গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব