রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্ট আয়োজিত জেন্ডার সমতা বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য রূপ দিতে নারীদের শুধু ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করলেই হবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের প্রতিটি পর্যায়ে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, নারীর অংশগ্রহণকে শুধু ভোটার বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; তাদের সার্বিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ভোটার হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা এবং বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোতেও নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, শুধু আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ নারীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনি অংশগ্রহণ বাড়াতে তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পাঁচতারকা হোটেলে বসে পরিকল্পনা না করে নারীর সমতা নিশ্চিত করতে সরাসরি মাঠে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার নারীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তাহমিদা আহমদ বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম মূল শর্ত হলো নির্বাচনে নারীদের অবাধ ও কার্যকর অংশগ্রহণ। শুধু ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নয়, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও নারীদের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নারী ভোটারের অনুপাতে এখনো নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আবারও নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী, কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য রূপ দিতে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম