শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ অক্টোবর ২০২৬ শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লিখেছেন, যে দলের জন্য জীবন যৌবন শেষ করলাম সেই দল আমাকে বহিষ্কার করলো। আলহামদুলিল্লাহ।
মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ ওঠে নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে। ৫ অক্টোবর নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে সাগরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার পর অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযোগটি যাচাই করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সাগরের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকির অভিযোগ বিভিন্ন নানা সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ এসব অভিযোগের মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে তাকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করল শরীয়তপুর জেলা বিএনপি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম