বগুড়া প্রতিনিধি: প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগ ও মানসিক সমস্যাকে ঘিরে থাকা stigma বা সামাজিক কলঙ্ক কমানো এবং সবার জন্য মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়াই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। ফি বছর ১০ অক্টোবর এলে আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলি। সেমিনার হয়, র্যালি বের হয়, সামাজিক মাধ্যমে বার্তার বন্যা বয়ে যায়। অথচ এত কথার ভিড়ে যাদের কণ্ঠ সবচেয়ে কম শোনা যায়, তারা সেই মানুষেরা, যারা নিজেই বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, মানসিক বিপর্যয় কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মনোরোগের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসেছেন। আমরা তাঁদের নিয়ে আলোচনা করি, কিন্তু তাদের সঙ্গে আলোচনা করি কমই। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক এই ফাঁকটির দিকেই আঙুল তুলেছে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন (WMHF) ১১ আগস্ট ঘোষণা করেছে, এ বছরের প্রতিপাদ্য "Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change"। বাংলায় ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়, "যাপিত অভিজ্ঞতার কথা শোনা হোক: প্রকৃত কণ্ঠ, প্রকৃত পরিবর্তন"। এর দাবি শুধু মনোযোগ দিয়ে শোনা নয়; যারা মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের কাজে লাগিয়েই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সেবার কাঠামো ও নীতি গড়া উচিত।
"যাপিত অভিজ্ঞতা" শব্দটি বইয়ের ভাষা মনে হতে পারে, কিন্তু কথাটা খুব ঘরোয়া। যে মানুষটি বছরের পর বছর রাত তিনটায় বুক ধড়ফড় নিয়ে জেগে উঠেছেন, যে তরুণী ওষুধ খাওয়া নিয়ে পরিবারের চোখে সন্দেহ দেখেছেন, যে বাবা সন্তানের মানসিক অসুস্থতা মেনে নিতে দীর্ঘ সময় নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে এমন জ্ঞান আছে যা কোনো পাঠ্যবই দিতে পারে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞান রোগের নাম দেয়, লক্ষণের তালিকা দেয়, চিকিৎসার ধাপ ঠিক করে। কিন্তু অসুখটা ভেতর থেকে কেমন, তা জানে কেবল যে সেটা বহন করেছে। কোন কথাটা সান্ত্বনা দেয় আর কোনটা আরও একা করে ফেলে, কোন ওষুধের পাশে জীবন সচল থাকে আর কোনটার ঝোঁকে মন ভোঁতা হয়ে যায়, কোন সেবাকেন্দ্র মানুষকে সম্মান করে আর কোনটা শুধু ফাইলের নম্বর বানায়, এসব প্রশ্নের সবচেয়ে সৎ উত্তর পাওয়া যায় যাপিত অভিজ্ঞতা থেকে। প্রতিবন্ধিতা-অধিকার আন্দোলনের একটি পুরোনো স্লোগান আছে: "আমাদের সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নয়, আমাদের ছাড়া।" মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কথাটা এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে। যে নীতিমালা যাদের জন্য লেখা হচ্ছে, তারা যদি খসড়ার টেবিলেই না থাকেন, তবে সেই নীতি কাগজে সুন্দর হলেও বাস্তবে অচেনা থেকে যায়।
আমাদের সমাজে মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে এখনও লজ্জা, ভয় আর সন্দেহ জড়ানো। "পাগল" শব্দটি একটি ছোট্ট গালি থেকে হয়ে ওঠে আজীবনের পরিচয়। পরিবার ভাবে, কথা ছড়ালে বিয়ে ভেঙে যাবে, চাকরি যাবে, "লোকে কী বলবে"। তাই অনেকে প্রথমে যান ওঝা, ফকির কিংবা তাবিজের কাছে, আর মনোরোগ চিকিৎসকের দরজায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে বছর পেরিয়ে যায়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ খুবই কম। যারা চিকিৎসা শুরু করেন, তাদের অনেকে কিছুদিন পর ওষুধ বন্ধ করে দেন, কারণ বাড়িতে বলার মতো কেউ থাকে না। "তুমি ভালো হচ্ছ" কথাটা বলারও কেউ থাকে না।
এই নীরবতা ভাঙার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, যারা সুস্থতার পথে হাঁটছেন তাঁদের গল্প শোনানো। একজন সাবেক রোগীর মুখে "আমিও এই জায়গায় ছিলাম, আজ আমি কাজ করছি, সংসার করছি" কথাটি যে ভরসা দেয়, কোনো পোস্টার বা বক্তৃতা তা দিতে পারে না। যাপিত অভিজ্ঞতার কণ্ঠ তাই একই সঙ্গে সেবার তথ্য আর সমাজের আয়না।
ডব্লিউএফএমএইচ চায় এ দিবসের কর্মসূচিগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিকতা-মুক্তির (ডিইনস্টিটিউশনালাইজেশন) উদ্যোগকেও সমর্থন করুক। এর মানে, দীর্ঘমেয়াদি বড় প্রতিষ্ঠান থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সরিয়ে এনে সমাজভিত্তিক সেবায় ছড়িয়ে দেওয়া। কথাটি শুনতে সহজ, কিন্তু ঝুঁকিও আছে। বড় হাসপাতাল ছোট করে দিলেই সমাজভিত্তিক সেবা তৈরি হয় না। বিকল্প সেবা না গড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষকে বের করে দিলে তারা শেষ পর্যন্ত রাস্তায় বা পরিবারের অবহেলায় গিয়ে পড়তে পারেন। তাই কোন সেবা কেমন হলে সত্যিই সহায়ক, কোথায় মানুষ নিরাপদ বোধ করে, প্রতিবেশী কীভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে, কোন কাজ বা বাসস্থান পুনর্বাসনকে টেকসই করে, এসব বলার সবচেয়ে যোগ্য মানুষ তারাই, যারা প্রতিষ্ঠানে থেকেছেন এবং বাইরের জীবনেও ফিরেছেন। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে বিশেষায়িত সেবা কয়েকটি শহরে কেন্দ্রীভূত, সমাজভিত্তিক সেবার ভাবনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষক আর পরিবারকে প্রশিক্ষিত করা সেখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কণ্ঠ শোনার কথা বললেই কাজ শেষ হয় না। প্রতিপাদ্যের দ্বিতীয় অংশ "প্রকৃত পরিবর্তন" আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শোনার পরে করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের উচিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটি, খসড়া প্রণয়ন ও মূল্যায়নে যাপিত অভিজ্ঞতার মানুষদের স্থায়ী আসন দেওয়া। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের উচিত সেবাগ্রহীতার মতামতকে নিয়মিত ও নিরাপদে গ্রহণ করার ব্যবস্থা রাখা। বিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ চাই, যেখানে "আমার সমস্যা হচ্ছে" বলার জন্য কাউকে ভাবতে না হয় তার ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে কি না। গণমাধ্যমের উচিত মানসিক অসুস্থতার খবরকে চাঞ্চল্যকর শিরোনামে নামিয়ে না এনে মানুষের পুনরুত্থানের গল্পও বলা। আর আমাদের প্রত্যেকের হাতে আছে একটি ছোট কিন্তু কঠিন কাজ, আরেকজনের কথা মন দিয়ে শোনা। উপদেশ না দিয়ে, তাড়াহুড়ো করে সমাধান না চাপিয়ে, "শক্ত হও" বা "এত ভাবিস না" বলে কথা কেটে না দিয়ে শুধু শুনে যাওয়া। অনেক সময় এই শোনাই কারও জন্য প্রথম নিরাপদ জায়গা।
আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বহু কিছু জানি, বহু কিছু বলি। এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের আরেকটি সাহসী কাজের দিকে ডাকছে: থেমে, নীরব হয়ে, তাদের কথা শুনতে, যারা এই পথ নিজের শরীর-মন দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন। তাদের কণ্ঠ শুনলে বোঝা যায়, চিকিৎসা শুধু ওষুধ আর পরামর্শ নয়; সেটা সম্মান, সংযোগ আর ভরসার একটি সম্পর্ক। এই ১০ অক্টোবর যদি আমরা শুধু একজন মানুষের কথা সত্যিই শুনি, তবে সেটাই হবে প্রতিপাদ্যের প্রথম বাস্তব বাস্তবায়ন।
এই বাস্তবতায় 'রোগীর কথা শোনা' চিকিৎসারই একটি অংশ। একজন রোগী কেন চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছেন, তার পরিবার কীভাবে তাকে দেখছে, কর্মক্ষেত্রে সে কী ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে, চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার কী সমস্যা হচ্ছে—এসব তথ্য শুধু সহানুভূতির বিষয় নয়; এগুলো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও caregivers-দের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানসিক রোগীর পাশে থাকা পরিবার অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করে। তাদের অভিজ্ঞতা না শুনলে একটি কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন। তবে রোগীর নিজস্ব কণ্ঠস্বরকে পরিবারের কণ্ঠের আড়ালে হারিয়ে ফেলাও চলবে না। লক্ষ্য হওয়া উচিত-রোগী, পরিবার, চিকিৎসক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকের অংশীদারিত্ব ও সমন্বয়।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ের পেছনে একটি গভীর দর্শন আর বিশ্ববীক্ষাও কাজ করছে। মানুষের ইতিহাসে, আমাদের সমকালে, যাপিত জীবনে নানাবিধ দর্শন ও বিশ্ববীক্ষার কমবেশি প্রভাব রয়েছে। যেমন- একেকটি ধর্ম একেকটি বিশ্ববীক্ষা উপস্থাপন করেছে। এছাড়া আধুনিকতাবাদ- এর অন্তর্গত নানা দর্শন, উত্তর আধুনিকতাবাদ, মানবতাবাদ, মানবাধিকার ইত্যাদিও মানুষের সমাজ, জ্ঞানকাণ্ডের বিভিন্ন দিকে প্রভাব ফেলেছে। মনোরোগবিদ্যাও তেমনি বিভিন্ন মত ও দর্শন দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি পোস্টমডার্ন সাইকিয়াট্রিক এপ্রোচের বহিঃপ্রকাশ।
প্রতিপাদ্যের প্রতিটি অংশ পোস্টমডার্ন বা ক্রিটিক্যাল সাইকিয়াট্রির কোন কোন ধারণার সঙ্গে মেলে। এতে দেশ-কাল-ঐতিহ্যের ধারণা আছে। আছে এক্সক্লুশন বা খারিজের বিপরীতে উত্তর আধুনিক বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তির কথা।
পোস্টমডার্ন চিন্তা মূলত বড় আখ্যান (metanarrative) বা সর্বজনীন সত্যের দাবিতে সন্দেহ জানায়। মনোচিকিৎসায় এর প্রধান কণ্ঠ প্যাট ব্র্যাকেন ও ফিলিপ টমাস, যারা ২০০১ সালে "পোস্টসাইকিয়াট্রি" ধারণাটি দাঁড় করান। তাঁদের মূল কথা: মানসিক কষ্টকে শুধু মস্তিষ্কের ত্রুটি ধরে "প্রযুক্তিগত সমস্যা" হিসেবে দেখলে অর্থ, সম্পর্ক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট হারিয়ে যায়। চিকিৎসা শুরু হওয়া উচিত নৈতিকতা ও সম্পর্ক দিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে নয়। সেবাগ্রহীতার ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যার চেয়ে কম বৈধ নয়। এর বুদ্ধিবৃত্তিক শেকড় ছড়ানো ফুকো (জ্ঞান ও ক্ষমতার সম্পর্ক, ১৯৬১-র Madness and Civilization), লেইং ও জাস-এর অ্যান্টি-সাইকিয়াট্রি, ক্লাইনম্যানের 'অসুস্থতার আখ্যান' এবং হিয়ারিং ভয়েসেস মুভমেন্টে।প্রতিপাদ্যে 'যাপিত অভিজ্ঞতা' (Lived Experience) একটি ফেনোমেনোলজির ধারণা। অসুখ কেবল লক্ষণের তালিকা নয়, একজন মানুষের জগৎ ও সময়ের অনুভব। ডিএসএম-এর মানদণ্ডে বিষণ্ণতা মানে নির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষণ। যাপিত অভিজ্ঞতায় বিষণ্ণতা হতে পারে 'সকালগুলো ভারী হয়ে থাকা' বা 'আয়নায় নিজেকে চিনতে না পারা'। পোস্টমডার্ন দৃষ্টিতে এই দুই বর্ণনার কোনোটিই অন্যটির চেয়ে 'বেশি বাস্তব' নয়। তারা বাস্তবতার ভিন্ন স্তর। DSM-5 তাই রোগীর কনটেক্সট, ইতিহাস, কালচার, স্পিরিটকে ক্রমেই গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। এটাই উত্তর আধুনিকতার লক্ষণ। কেননা মডার্নিজম কেবল বিজ্ঞানবাদকে উচ্চকিত করেছিল। শোনা (Heard) গুরুত্বপূর্ণ। ফুকোর মতে জ্ঞান আর ক্ষমতা একে অন্যকে গড়ে। কে কথা বলার অধিকার পায়, কার কথা 'লক্ষণ' হিসেবে লেখা হয় আর কার কথা 'মতামত' হিসেবে, সেটাই ক্ষমতার প্রশ্ন। মিরান্ডা ফ্রিকারের 'জ্ঞানগত অন্যায়' (epistemic injustice) ধারণা আরও স্পষ্ট করে। রোগীর কথা অনেক সময় শুধু রোগীর বলেই কম বিশ্বাসযোগ্য ধরা হয়। 'শোনা' তাই নিরীহ নয়; এটি সেই শ্রেণিবিন্যাস ভাঙার ডাক। প্রকৃত কণ্ঠ (Real Voices, বহুবচনে) একক নয় বহু কণ্ঠের প্রতিধ্বনি। দেরিদার বিনির্মাণ তত্ত্ব এখানে কাজে লাগে। পোস্টমডার্ন চিন্তা একক সত্যের বদলে বহু সত্যকে স্বীকার করে। 'রোগী' নামের কোনো অভিন্ন সত্তা নেই। আছে নারী, কিশোর, শরণার্থী, বন্দি, গ্রামের কৃষক, আর প্রত্যেকের গল্প আলাদা। স্যানিটাইজড 'সাফল্যের কাহিনি' বা এক ছাঁচে ঢালা "রিকভারি স্টোরি" তাই পোস্টমডার্ন চোখে নতুন একচেটিয়া আখ্যান হয়ে উঠতে পারে।
প্রকৃত পরিবর্তনে (Real Change) মেলে ডিইনস্টিটিউশনালাইজেশন ও ব্যাসাগ্লিয়া-ঘরানার সংস্কার। ইতালির ফ্রাঙ্কো ব্যাসাগ্লিয়া ১৯৭০-এর দশকে আশ্রম বন্ধ করে সমাজভিত্তিক সেবার ভিত্তি গড়েছিলেন। প্রতিপাদ্যে ডব্লিউএফএমএইচ নিজেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিকতা-মুক্তির উদ্যোগকে সমর্থনের কথা বলেছে। পোস্টমডার্ন ব্যাখ্যায় এর অর্থ শুধু ভবন বদল নয়, ক্ষমতার পুনর্বণ্টন: সেবা কাঠামোর নকশায় সেবাগ্রহীতার সিদ্ধান্ত।
এই ভাবনার বাস্তব উদাহরণ হলো ওপেন ডায়ালগ (ফিনল্যান্ড) ব্যবস্থা। যেখানে সংকটের সময় রোগী, পরিবার ও চিকিৎসক একসঙ্গে খোলা আলাপে বসেন, সিদ্ধান্ত হয় সবার উপস্থিতিতে। হিয়ারিং ভয়েসেস মুভমেন্ট: কণ্ঠস্বর শোনা মানুষদের নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক, যেখানে অভিজ্ঞতাকে "হ্যালুসিনেশন" না বলে অর্থ খোঁজা হয়। পিয়ার সাপোর্ট: সেবাগ্রহীতা নিজেই সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এলকোহোলিক এনোনাইমাস এর মতো বিভিন্ন সাপোর্ট গ্রুপ। ন্যারেটিভ থেরাপি: মানুষকে তার সমস্যার 'লেখক' হতে দেওয়া।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব