ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও শহরে নোয়াখালীগামী এক গৃহবধূকে (২০) বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে শালবাগানে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মো. সুজন (২২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর রাতে শহরের হাজীর মোড় সংলগ্ন বনবিভাগ অফিসের পেছনের শালবাগানে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পেশায় অটোরিকশাচালক স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তিনি পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। কিন্তু সঙ্গে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাসে উঠতে না পেরে তিনি বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করতে থাকেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় যুবক সুজন তাকে গন্তব্যের কথা জিজ্ঞাসা করেন। ওই নারী টাকা না থাকার কথা জানালে সুজন তাকে ঢাকায় যাওয়ার বাসে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের অটোরিকশায় তোলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাসে তোলার কথা বলে সুজন অটোরিকশায় করে গৃহবধূকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভাস্থ হাজীর মোড় এলাকার বনবিভাগ কার্যালয়ের পেছনের শালবাগানে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্ত সুজন তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ের জরুরি বিভাগের ফটকের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে হাসপাতাল মারফত খবর পেয়ে স্বজনেরা এসে তাকে ভর্তি করান। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার কারণে এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০/৩৮২ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব