ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দুর্গাপূজার মণ্ডপ দেখে বাড়ি ফিরছিল ১২ বছরের শিশু সেতু রানী। পথে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৯ মাইল বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে থাকা অবস্থায় একটি যাত্রীবাহী নাইট কোচের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় সে। হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে। শুক্রবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেতু রানী দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের জীতেন বর্মন ও বিউটি রানীর মেয়ে।
নিহত শিশুর চাচা মানিক বর্মন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ২৯ মাইল বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ধন্দগাঁও ২৯ মাইল পূজামণ্ডপ দেখে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়কের পাশে ছিল সেতু। এ সময় পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও হয়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী নাইট কোচের চালক দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর সময় তাকে ধাক্কা দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সেতুর মাথা, কপাল, বাঁ হাতের কনুই ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুরে নেওয়ার পথে বীরগঞ্জ এলাকায় রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে সেতুর মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
এ ঘটনায় আজ শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অজ্ঞাতনামা বাসের চালকের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন সেতুর চাচা মানিক বর্মন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্জাহান আলী বলেন, সেতু রানীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব