স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকায় মাদক কারবার বন্ধের দাবি উঠলেও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে বক্তব্য দেন তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। পরে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বস্তিতে মাদক কারবারের কার্যক্রম রয়েছে। তাঁরা এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে মাদক নির্মূলের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিক কিংবা কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হোক—তা চান না তাঁরা।
এদিকে বস্তির পাশের একটি জমিতে আড়ত স্থাপনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের প্রশ্ন, বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণার সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত কোনো স্বার্থ জড়িত কি না। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এলাকায় মাদক কারবার বন্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে ওই এলাকায় মাদক কারবারের কোনো সক্রিয় স্পট নেই।
বস্তি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের মতে, মাদক কারবারের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে বস্তি উচ্ছেদের প্রয়োজন হলে জমির মালিকানা, উচ্ছেদের আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ