স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১০।
সোমবার দুপুরে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের সংবাদ সম্মেলনের পর এ অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেকসহ মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় মামলা করার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। তবে বারবার অভিযান চালিয়েও এলাকাগুলো পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব এলাকার অনেক মাদকসেবী ও কারবারি ভাসমান। তারা হঠাৎ এসে মাদক কেনাবেচা বা সেবন করে চলে যান। অভিযানের সময় যাদের পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাওয়ার পর আবারও অনেকে সেখানে ফিরে আসেন।
তিনি আরও বলেন, রেলস্টেশনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা যায়। সীমিত জনবল দিয়ে একসঙ্গে অনেক এলাকা নজরদারিতে রাখতে হয়। একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালনে গেলে আগের এলাকায় আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা শুরু হয়।
ঘুন্টিঘর এলাকায় স্থায়ী নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।
এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শন করে আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
পদত্যাগের আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন ইশরাক। এরপরই গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব