রাজবাড়ী প্রতিনিধি: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশপ্রেমের চেতনায় সবাই মিলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন এবং সবার জন্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সব শ্রেণি-পেশা ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ ও সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উৎসবের আনন্দ আরও বিস্তৃত হবে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে।
ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন ধর্মের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবায়েত ও যাজকদের সম্মানিত করেছে এবং তাঁদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার হলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ জন্য সবার অংশগ্রহণ, কর্মনিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং দেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পারস্পরিক বিভেদ দূরে রেখে ঐক্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে সবাই একযোগে কাজ করলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম বড় উদাহরণ বাংলাদেশ। এ সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তারিফ উল হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ