মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদবপুর-বুড়িপোতা সড়ক সংস্কারের জন্য খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ। দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মেহেরপুর শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ পাকা ও উন্নয়নের জন্য ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শিশির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজের শুরুতে পুরোনো বিটুমিন তুলে সড়কটি খুঁড়ে ফেলা হয়। কিন্তু এরপর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার আশিকুর রহমান শিশির। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সড়কে চলাচলকারীরা জানান, বুড়িপোতা, বাড়িবাঁকা, শালিকা, বাজিতপুরসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের শহরে চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মানুষ বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস মান্নান বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হবে শুনে আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু পিচ খুঁড়ে ফেলে রাখায় এখন চলাচল করতেই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের কষ্ট কমবে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অসুস্থ রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালক এ পথে যেতে চান না। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং গর্ভবতী নারীদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কটিতে অন্তত অস্থায়ীভাবে চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার আশিকুর রহমান শিশিরের সাথে যোগাযোগ করা হলো তিনি কথা বলতে রাজি না হলেও তার ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, কাজ শুরুর পর হঠাৎ তেল ও বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেক টাকা লোকসান হচ্ছিল। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এলজিইডি থেকে নতুন করে কাজ করার কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মেহেরপুর এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউদৌলা বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঢাকায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন না করলে জরিমানাসহ নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব