স্টাফ রিপোর্টার: প্রচলিত বাজারের বাইরে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ অঞ্চলের ১১টি দেশে ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ব্রাজিল, চিলি ও পেরুতে। তবে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা এখনো বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ এসেছে ওভেন ও নিট পোশাক থেকে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ব্রাজিলে ৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
চিলিতে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য। আর পেরুতে রপ্তানির পরিমাণ ২ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া কলম্বিয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার, উরুগুয়েতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার এবং আর্জেন্টিনায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
ইপিবির পণ্যভিত্তিক হিসাবে, দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে প্রথম তিন মাসে ওভেন পোশাক ও পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। দুই শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত বাজারের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকায় পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, গৃহসজ্জার উপকরণ ও হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় দেশের চারটি প্রতিষ্ঠান।
ইপিবির আর্থিক সহায়তা ও ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস।
পাঁচটি বুথে প্রতিষ্ঠানগুলো পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, বাঁশের পণ্য, টেরাকোটা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও নকশিকাঁথা প্রদর্শন করে।
প্রদর্শনীতে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের গৃহসজ্জা ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় একটি সেমিনারও।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে ইপিবি। তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও অল্প কয়েকটি বাজারে সীমাবদ্ধতা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাজারের চাহিদা, ভোক্তার পছন্দ, পণ্যের দাম, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক রীতিনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় প্যাভিলিয়নের ব্র্যান্ডিং, রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। জুতা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ ছাড়া অন্যান্য বস্ত্রপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী ও ভ্রমণসামগ্রীও রপ্তানি তালিকায় রয়েছে।
রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিল ও চিলিতে সম্মিলিতভাবে রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য, যা দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে এ দুই দেশের পাশাপাশি পেরু ও কলম্বিয়ায় বাজার সম্প্রসারণ এবং পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ