ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। এরপর সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন এস এম সমিনুজ্জামান সমিন। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমিন বর্তমানে জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব
সমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে ঝিনাইদহ সরকারি বালক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ২০০৩ সালে ছাত্রদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৫ সালে ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মামলা-সংক্রান্ত কারণে ২০০৬-০৭ সালে নিজ জেলা ছেড়ে থাকতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সমিন। ওই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখেন বলেও তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
২০০৯ সালে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে জানা যায়। দীর্ঘ এই সময়ে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বের অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সমিন। ছাত্ররাজনীতি থেকে মূল দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে আসার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
৪৪ মামলার মুখোমুখি, কারাবরণের দাবি সাতবার
সমিনের রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে মোট ৪৪টি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সাতবার কারাবরণ করেছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার ও ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের সময় তাঁকে ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল। এ ছাড়া পুলিশ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে নেওয়ার সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের আদেশ, কারাবাসের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর প্রকৃতি ও বর্তমান আইনি অবস্থাও সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা জরুরি।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য
সমিনের রাজনৈতিক পথচলায় পারিবারিক পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে। তাঁর বাবা এস এম মসলেম উদ্দীন ছিলেন ১২ নম্বর নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁর মা এলিজা পারভীন ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।
সমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মা দুজনই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক আগ্রহ ও নেতৃত্বের পথচলায় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়
১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এস এম সমিনুজ্জামান সমিন। তাঁর দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ঝিনাইদহের জিয়াউর রহমান ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তাঁর জীবনবৃত্তান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ। ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে আসার মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি থেকে জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক—সমিনের রাজনৈতিক পথচলা মূলত ছাত্ররাজনীতি ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকার অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে কীভাবে কাজে লাগান, তা তাঁর ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হবে।
দলীয় কার্যক্রমে ক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগানো এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে রূপ দেওয়াই এখন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ