নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ঘিরে বিএনপিপন্থী নেতাদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সাতটি পদের বিপরীতে বৈধ প্রার্থীদের বড় অংশই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্বে থাকায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচজন সদস্য নির্বাচিত হবেন। ১৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সদস্য পদে আবুল কালাম আজাদের মনোনয়নপত্র ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে।
নির্বাচনে অ্যাডভোকেট নবী হোসেন ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নবী হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে টিপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেলের পাঁচ সদস্য প্রার্থী হলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সরকার হুমায়ুন কবির, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
প্যানেলের বাইরে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যবসায়ী জি এম হায়দার আলী। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান ও বিএনপি নেতা আমিনুর ইসলাম মিঠু।
সদস্য পদে নবী-টিপু প্যানেলের পাঁচ প্রার্থীর পাশাপাশি বৈধ প্রার্থী হয়েছেন হারুনুর রশীদ খান, নাজমুল হক, ইফতেখার আহমেদ জিমু, অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান এবং সাংবাদিক মেহেদী হাসান সজীব।
এদিকে, অ্যাডভোকেট নবী হোসেনকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করতে রাজনৈতিকভাবে প্রার্থী বাছাই ও সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও আলোচনা রয়েছে।
সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপি’র জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, “এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন প্রার্থী হিসেবে নবী ভাই একাই রয়েছেন। তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলে শুনেছি। সেক্রেটারি পদেও একই ধরনের চেষ্টা চলছে বলে শুনছি, যাতে বাকি দুই প্রার্থীকে বুঝিয়ে একজনকে বসিয়ে দেওয়া যায়। নির্বাচনের সবকিছু ঘোষণা করা এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর, এমনকি নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সিলেকশনের জন্য দৌড়ঝাঁপ ও চেষ্টা চালানোর বিষয়টি লক্ষ করছি। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তবে আমি আশাবাদী, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সবাই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমি এগোচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।”
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক বদরুননাহার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুন নূর বাঁধন, ব্যবসায়ী নেতা মো. সোহেল আক্তার সোহান এবং জেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুল।
এর আগে গত আগস্টে নিয়মিত কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে তিন মাসের জন্য ইউনিটের একটি অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হন অ্যাডভোকেট নবী হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হন আবু আল ইউসুফ খান টিপু। দুজনই এবারের নির্বাচনেও একই পদে প্রার্থী হয়েছেন।
অ্যাডহক কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক বদরুননাহার, সামছুন নূর বাঁধন, সোহেল আক্তার সোহান ও নজরুল ইসলাম বাবুল। তাঁরা চারজনই বর্তমানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব ছিল নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত নিয়মিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপিপন্থীদের আধিক্য এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রার্থীরা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব