বাগেরহাট প্রতিনিধি: ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাগেরহাট সদর সার্কেল) সাবিহা মেহেবুবা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, নিরাপদ সড়ক দিবস সংগঠনের বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি আলী আকবর টুটুল, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল আচরণ।
বক্তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলা, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা এবং মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গাড়িতে যাতায়াতের সময় সিটবেল্ট ব্যবহার, পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার এবং যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবহন মালিক, চালক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবার মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সড়ক পরিবহনে দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন চালকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব