রিপোর্টার্স বিনোদন ডেস্ক: সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে, শোবিজের মানুষের সংসার টেকে না! কিন্তু জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী-অভিনেতা তাহসান খান এবং মডেল-অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার দাম্পত্য দেখে অসংখ্য মানুষ তাদের আদর্শ ভাবতে শুরু করে।
তাই তাহসান-মিথিলার প্রায় ১১ বছরের সংসার ভাঙনের খবর যখন সামনে আসে তখন অনেকেই মানতে পারেনি। সে সময় শাহবাগে কর্মসূচীর ডাক পর্যন্ত দেয়া হয় যেন তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সেজন্য! এখনো অনেকে এই জুটিকে নিয়ে হা হুতাশ করে থাকে।
কিন্তু সবাইকে হতাশ করে তাহসান-মিথিলা দম্পতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। এরপর নিজেদের বিচ্ছেদ নিয়ে দুই তারকার কাউকেই খুব একটা কথা বলতে শোনা যায়নি।
অবশেষে মুখ খুললেন মিথিলা। আর তার জন্য সময় নিলেন ৮ বছর। বিচ্ছেদের পর কেমন কঠিন সময় পার করেছেন তা তা তুলে ধরেছেন এক পডকাস্টে।
চূড়ান্ত বিচ্ছেদের আগে আলাদা থাকতে শুরু করেন তারা। মিথিলা তখন ভেবেছিলেন শেষ পর্যন্ত হয়তো বিচ্ছেদ হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়নি।
মিথিলা বলেন, যে কোন বিচ্ছেদ বা যে কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া সহজ না, খুবই কঠিন। বন্ধুত্ব বা এটা যে কোনো ক্ষেত্রে হতে পারে। আমি ছিলাম তখন অনেক অল্পবয়সী এবং তরুণী মা। আমি যে কোনো একটা ভালো মন্দ বিচার করবো বা কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসবো, সেটার শক্তিই আমার ছিল না। কারণ আমার একটা ১ বছরের বাচ্চা। আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না, যেখানে আমি কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো নিজের জীবনের।
মিথিলা কঠিন সেই সময়কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না জানিয়ে বলেন, ২৩ বছর বয়স থেকে আমি আমার জীবনকে একভাবে ভেবে এসেছিলাম। হঠাৎ করে জীবনটা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষদের সঙ্গে থেকেছি। একে তো আমার বাচ্চা আছে তারপর আমি জানলাম সেই জায়গাটা আমার ভবিষ্যৎ না।
আমি তখন চাকরি করতাম, কিন্তু আমার একটা গাড়িও ছিল না। কিন্তু আমার তো অভ্যাস ছিল গাড়িতে করে বাইরে যাওয়ার, আমার বাচ্চার অভ্যাস ছিল গাড়িতে চড়ার।
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী অনুভব করেন মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জরুরি। আলোচিত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মেয়েদের নিজেদের আসলে জায়গা থাকে না। শ্বশুরবাড়ি আবার বাবার বাড়ি, থ্যাঙ্কফুলি এখন আমার নিজের জায়গা আছে। মেয়েদের সবার আগে যেটা দরকার সেটা হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া জীবনের অন্য সব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়।’
মিথিলা বলেন, এখন হয়তো মেয়েরা অনেক বেশি সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কারণ এখন মেয়েরা অনেক বেশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পাচ্ছে। আমাকে ছোটবেলা থেকে মা বলেছে যা-ই করো নিজের পায়ে দাঁড়াবে। ফলে বিয়ের পরেও আমি আমার পড়াশোনা, চাকরি সব চালিয়ে গেছি। তবে তখন আমি অতটা অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন ছিলাম না যে একা একা অতটা ভাবতে পারবো, বাচ্চা মানুষ করতে পারবো।
সেটার জন্য সময় লেগেছে। ২০১৫ সালে আমরা সেপারেশনে গেছি, তারপরে আরো দু বছর গেছে। আমি অপেক্ষা করেছি, ভেবেছি যে এটা ঠিক হয়ে যাবে, ঠিক হয়ে যাবে। মানসিকভাবে এটা মেনেই নিতে পারছি না। ২০১৭ সালে এসে সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম যে আমাদের মনে হয় এই সম্পর্কটা আসলেই কাজ করবে না।’
তাহসান মিথিলার পরিচয় গানের মাধ্যমে। তাহসান তখন ব্ল্যাক ব্যান্ডের গায়ক। এক বন্ধুর সঙ্গে তাহসানের আড্ডায় গান শুনতে যান মিথিলা। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক পরিণয়ে গড়ায়। তাহসান ও মিথিলা ২০০৬ সালে ৩ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আইরা তেহরীম খান তাহসান-মিথিলা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
বিয়ের পরে তাহসান-মিথিলা একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। আমার গল্পে তুমি,মিস্টার অ্যান্ড মিসেস,ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম, মধুরেন সমাপয়েত নাটকসহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন এই জুটি। নাটক ছাড়াও এ জুটি একসঙ্গে গানও গেয়েছেন।
তাহসান-মিথিলাকে বিচ্ছেদের পর একটিমাত্র কাজে দেখা গেছে, চরকির একটি ওয়েব সিরিজে তারা স্বল্প সময়ের জন্য একফ্রেমে অভিনয় করেন। সেই সিরিজের সংবাদ সম্মেলনের বাইরে তাহসান-মিথিলাকে একসঙ্গে আর দেখা যায়নি। যদিও মেয়ে আইরার জন্য তাদের ক্যামেরার বাইরে মাঝেমধ্যেই দেখা হয়ে যায়।
তাহসান এখন রোজা আহমেদকে বিয়ে করে সুখে আছেন বলেই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর মিথিলা তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওপার বাংলার বিখ্যাত নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে বিয়ে করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম