রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকেই শ্রমিকদের আন্দোলনে মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকাসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর ১১, ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড় এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন। তাদের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, রোববার সকাল থেকেই মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছেন। তারা সড়ক অবরোধ করে নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মিরপুর জোন ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহফুজুল হক বকশী জানান, পোশাকশ্রমিকেরা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। এর ফলে বর্তমানে মিরপুর ১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প পথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডাইভারশনের ব্যবস্থা করে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই রোববার সকালে নতুন করে এই অবরোধ শুরু হয়। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা একাধিক স্থানে অবস্থান নেওয়ায় মিরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় যান চলাচলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন দুপুরের দিকে তারা মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে সরে গিয়ে শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। পরে বেলা ২টার পর শাহ আলী এলাকার একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ওই কারখানা ও একটি বিপণিবিতানে ভাঙচুর চালান। এরপর বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানায়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা।
টানা দুই দিনের এই আন্দোলনে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ও যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকাটিতে সৃষ্টি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম