বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাল পুনঃখনন করতে ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার নদী এবং ৬ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মাসে তিনটি নদীর পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে নাব্যতা ফিরে আসবে। বগুড়া শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। নদীর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়ায় করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নদীতীর প্রতিরক্ষা ও পুনঃখনন কাজের জন্য নির্ধারিত ঘাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। শহরের এসপি ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করে সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের গৌরিদাসপুর এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রম, নদী পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ, ভাঙন প্রতিরোধ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রকল্পের কাজ যথাযথ পরিকল্পনা এবং কারিগরি মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল, জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নদীর ভাঙন বা কোনো অবকাঠামোর ক্ষতি নিশ্চিত না হয়ে কোথাও বালু তুলতে দেওয়া হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
করতোয়া নদী পরিদর্শকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম. আহসানুল তৈয়ব জাকির, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়ার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি খাদেমুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব