রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সম্প্রসারণে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে সূর্যের আলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব। উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা কঠিন হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা অনেকটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কিংবা বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে বিদ্যুৎ খাতে আগের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সময় নষ্ট করতে চায় না বর্তমান সরকার। বরং বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, দেশের বিপুল সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।
এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা পৃথকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানান তিনি।
শুধু জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৭ হাজার সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে সেচের জন্য প্রচলিত জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় বিদ্যুতের বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দেশের প্রবাসীদেরও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও প্রয়োজন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ এ খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যুতের অপচয় রোধে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম