টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী কামালপুর মালিরচালা এলাকায় পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির অবৈধ কারখানা গড়ে ওঠেছে।দীর্ঘদিন ধরে কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এছাড়া বিষাক্ত কালো ধোয়ায় বন্য প্রাণীর জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন।
উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের মালিরচালা এলাকায় গহীন বনের ভিতর গড়ে ওঠা অবৈধ এ সিসা কারখানাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্তহীন অভিযোগ সত্বেও প্রভাবশালী মহলের ছত্র”ছায়ায় কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখাযায়, স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় বনের ভিতর পতিত জমি ভাড়া নিয়ে এ কারখানাটি পরিচালনা করছে সিসা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক রহমতুল্লাহ। সেখানে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা ভেঙে সীসা ও এসিডসহ অন্যান্য উপাদান আলাদা করছেন শ্রমিকেরা। কারখানাটিতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মিলে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে ।স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ব্যাটারি ভেঙে অ্যাসিড, সিসা ও প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। পরে রাতে মাটির গর্তে এসব উপাদান পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়।
এ সময় এলাকায় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফসল ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।স্থানীয় পরান বলেন, দিনে ব্যাটারির অ্যাসিড মিশ্রিত সীসা ও প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। শুনেছি, রাতে সেগুলো পোড়ানো হয়। এ সময় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এতে বনের গাছ সহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে কারখানাটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার অদৃশ্য মহলের সহায়তায় কারখানার কার্যক্রম পুনরুদ্দমে চলছে।
তিনি জানান, ঢাকার রহমাতুল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় দিনে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে সেগুলো ভেঙ্গে সারা রাত আগুনে পোড়ায়। অ্যাসিড ও ব্যাটারি পোড়ানোর কারণে এলাকার চতুর্দিকে ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কয়েকবার তাঁদের নিষেধ করেছেন বলেও জানান।কারখানার ম্যানেজার বলেন, কারখানাটি বৈধ নয়। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এখনো অনুমোদন পাইনি। তবে নির্জন বনের ভিতর এ কারখানা করায় পরিবেশের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো, জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঘাটাইলের ওই সীসা কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কারখানায় রাতের আঁধারে ব্যাটারি পোড়ানো হয়। রাতের বেলায় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।তারপরও তারা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম