রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করলে কেউ লাভবান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, পলাতক শক্তিও আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কেউ রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উসকানি দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
শ্রমিক আন্দোলনে বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের গোপন সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারখানার মালিকও শ্রমিক অসন্তোষ ও অরাজকতা তৈরির সঙ্গে জড়িত। এমনকি প্রতিবেশী দেশ থেকেও এসব ঘটনায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, আগামীকাল শনিবার রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা (র্যালি) অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি।
রিজভী বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম