কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ কুখ্যাত শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছে থাকা মানুষের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া সোনার চেইন ও আংটিসহ বিভিন্ন মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
এ সময় পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িতে একা থাকা বৃদ্ধার ওপর চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে তাকে অচেতন করা হয়। পরে ঘরে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
শনিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার হোগলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নাইম হোসেন, পারভীনা খাতুন, ইন্তদুল হক, তরিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, রেখা খাতুন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সবার বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী থানার হোগলবাড়িয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছিল।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, কুষ্টিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সর্বস্বান্ত করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম গাংনী থানা পুলিশের সহযোগিতায় হোগলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কুখ্যাত শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের এই ৬ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন লোকজনকে টার্গেট করত। বিশেষ রাসায়নিক বা বিশেষ কোনো উপায়ে মানুষের মানসিক নিয়ন্ত্রণ বা চেতনা কিছুটা আচ্ছন্ন করে সর্বস্ব কেড়ে নিত। সাধারণ পথচারী, সহজ-সরল মানুষ কিংবা বিপদে পড়া যাত্রীরাই মূলত তাদের প্রধান টার্গেট ছিল। মুহূর্তের মধ্যে মূল্যবান গহনা ও নগদ টাকা হাতিয়ে চম্পট দিত এই চক্রের সদস্যরা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও অন্য কোনো প্রভাবশালী বা কুচক্রী মহল জড়িত আছে কি না এবং তারা অতীতে কুষ্টিয়া ও এর আশপাশে আর কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে, সে বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে। কুষ্টিয়া জেলায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব