রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সরকারকে নতুন করে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। আবারও প্রশ্ন উঠছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এগার মাস পার হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন ব্যর্থ হচ্ছে?
কারণ মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা, বিভিন্ন স্থানে হামলা, খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপিসহ কোনো দল সরকারের বিরুদ্ধে মবকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ডের ঘটনা ছাড়াও খুলনায় যুবদলের এক নেতাকে হত্যার পর পায়ের রগ কেটে দেয়া, চাঁদপুরে মসজিদের ভেতরে ইমামকে চাপাতি দিয়ে কোপানোসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, চাঁদাবাজিসহ বহু ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
এর আগে মার্চ মাসে ঢাকার কাছে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলায় আপন দুই ভাইসহ তিনজনকে মসজিদের ভেতরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিলো।
এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক 'মব সন্ত্রাস' জনজীবনে আরেক উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেসব ঘটনার সময় অনেকে ক্ষেত্রেই সরকার কিংবা পুলিশ দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে পরিস্থিতির ক্রমাবনতির জন্য 'সরকারের সদিচ্ছা' কতটা আছে সেই প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। এমনকি নির্বাচন বিলম্বিত করতে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির একটি অংশের পক্ষ থেকে।
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর কোনো কোনো পক্ষ বিএনপিকে দায়ী করে মিছিল করার পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান 'মব' (দলবদ্ধ সহিংসতা) সৃষ্টি করে একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার পেছনে সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় আছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের আগ্রহটাই তাদের পদক্ষেপে প্রকাশ পায়নি বলেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। তাদের মতে, শুরু থেকে শৈথিল্য দেখিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এখন মব সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে।
ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ সচিবালয়ে জানিয়েছেন, দেশে খুন, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালানসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজ রোববার থেকেই এজন্য 'চিরুনি অভিযান' শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি।