✍️ রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক
২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’ বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-যুবকদের নেতৃত্বে সংঘটিত এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। এই আন্দোলন ছিল বৈষম্য, ক্ষমতার দাপট ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক গণজাগরণ। আর এই জাগরণে নারীর নেতৃত্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন।
প্রচারবিমুখ, শান্ত স্বভাবের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী নাফসিন, হঠাৎ করেই হয়ে ওঠেন রাজপথের প্রেরণা। একটি ফেসবুক পোস্ট তার বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বুঝে ফেলেছিলেন, আর চুপ করে থাকা চলে না।
সেই উপলব্ধি থেকেই রাজপথে প্রথম কণ্ঠে তুলে নেন স্লোগান—
“স্বৈরাচার আর নয়, জনগণের অধিকারই হবে আমাদের মূল দাবি!”
রাজপথে প্রতিরোধের প্রতীক
জুলাই মাসজুড়ে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড, বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় প্রতিদিনের মিছিলে সক্রিয় ছিলেন নাফসিন। পুলিশের বাধা, টিয়ারশেল, জলকামান—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। চারপাশে যখন সহপাঠীরা দ্বিধায়, তখন তিনিই ছিলেন নেতৃত্বে। অনেকেই তাকে ডাকতে শুরু করেন “অগ্নিকন্যা” নামে।
তার এক সহযোদ্ধার কথায়,
“ও যখন মাইক হাতে দাঁড়ায়, ভয় নামের শব্দটাই যেন হারিয়ে যায়।”
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতেও আলোচিত
শুধু দেশেই নয়, আন্দোলনের সময় আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর চোখেও পড়েন নাফসিন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা তার ছবি ও বক্তব্য শেয়ার করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নেন এই প্রতিবাদী নারী।
তিনি নিজেও বলেন—এই বিজয় কারও একার নয়, এটি একটি জনতার জাগরণ।
‘জুলাই কারও বাপের না’
আন্দোলনের পর অনেকে ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। নাফসিন নিজেকে এখনো পরিচয় দেন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থী হিসেবে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্ট ‘জুলাই কারও বাপের না’ নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। সেখানে তিনি বলেন,
“কোনো দল বা গোষ্ঠী জুলাই মাসের অর্জনকে নিজের সম্পত্তি বানাতে পারে না। এটি সবার—যারা এই দেশের মানুষ, তারাই জুলাইয়ের মালিক।”
সাহসের প্রতীক, ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা
নাফসিন এখন শুধু একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নন, বরং প্রজন্মের এক অনন্য প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
তার কথায়—
“যতদিন অন্যায় থাকবে, ততদিন প্রতিবাদ থামবে না।”
এই লড়াই, এই সাহস একদিন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে—যেখানে একটি নাম জ্বলজ্বল করে উঠবে—নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস