সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, দয়া করে একটু পক্ষপাতমূলক আচরণটা বন্ধ করেন। এক দলকে কোলে আরেক দলকে কাঁধে রেখেছে। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রোগ্রাম করবেন না। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করছি। দ্রুত নির্বাচন দিন, দেশে শান্তি ফিরবে। না দিলে আমরা ভাবব, দেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়া আপনারাই করছেন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত মৌন মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রায় ৪২২ জন শহীদ হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিক্রি করে কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা বেঁচে থাকলে লজ্জা পেতেন। তারা যে কারণে জান দিয়েছিল, যে কারণে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, সেই কারণগুলো আজকে হচ্ছে না। শহীদরা কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেয় নাই। তারা দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য জীবন দিয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা সংগ্রাম করেছি, যুদ্ধ করেছি, জেলে গিয়েছি কিন্তু সেগুলোর প্রতিদান নিই নাই, চাইও না। কিন্তু জুলাইকে ভিত্তি করে একটি দল প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। আর কিছু দল আছে যারা বেচা-কেনা করছে।
তিনি আরও বলেন, একজন তথাকথিত পীর সাহেব বলেছেন, ‘জামায়াতের ছোঁয়া যেখানে লাগবে সেই জায়গায় পচে যাবে’। মনে আছে কি আপনাদের কথাটা? তিনি আজকে জামায়াতের কোলে উঠে বসেছেন। আবার যেই জামায়াত একসময় বিএনপির কাঁধে পাড়া দিয়ে মন্ত্রী হয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগের কাঁধে পাড়া দিয়ে মন্ত্রী হয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে অনেকে আওয়ামী লীগের কাতারে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দয়া করে জিহ্বায় একটু লাগাম দিন। তাতে আমাদের সবার ভালো হবে। দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য বিএনপি ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছে। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। কিন্তু বিএনপির এক নেতাকর্মীও জীবিত থাকলে তারা কখনো সফল হবে না।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।